দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) একদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। কিন্তু সাপ্তাহিক হিসাবে এর দাম কমেছে প্রায় আট শতাংশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুসারে, সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাজার। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তেলের দাম। দিনশেষে প্রায় চার মার্কিন ডলার বেশি দামে স্থির হয় তেলের বাজার।
এদিন সকালে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭৯ দশমিক ০৮ ডলার। দিন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ৫৫ ডলারে।
অর্থাৎ সকালের তুলনায় দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৭ ডলার। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআইয়ের দামও বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল প্রায় ৭৪ দশমিক ৬৯ ডলার। দিন শেষে তা বেড়ে ৭৮ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছায়।
এক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বা প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে, একদিনে বড় ধরনের উত্থান হলেও পুরো সপ্তাহের হিসাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
শুক্রবারের উত্থানের পরও ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
আন্তর্জাতিক বেচাকেনায় প্রতি ব্যারেলে সাধারণত ১৫৮ দশমিক ৯৮ লিটার তেল থাকে। তার সঙ্গে মার্কিন ডলারের আনুমানিক দাম ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে দেখা যায়-
শুক্রবারের বাজারদর অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০ হাজার ২৭৬ টাকা প্রায়। তাতে প্রতি লিটারের দাম পড়ছে ৬৫ টাকার কাছাকাছি।
একইভাবে, ডব্লিউটিআই তেলের দাম পড়বে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯ হাজার ৬১৬ টাকা এবং প্রতি লিটার ৬০ দশমিক ৪৮ টাকা।
তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার বড় কারণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি বহনকারী বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচল করে।
এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ফের স্বাভাবিক করার মতো কোনো সমঝোতা করা যায় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
এর মধ্যেই ইরান এমন একটি আইন করার কথা বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সীমিত করা হতে পারে। এতে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আলোচনা তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া, ইরান-ওমানের আলোচনা এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোনো সমঝোতা হলে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমতে পারে। অন্যদিকে, উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এই অনিশ্চয়তার কারণেই গত কয়েক দিনে তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
কে